কোরআনে কারিম শিক্ষার প্রাথমিক স্তর মক্তব। ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে মক্তব হচ্ছে মুসলমানদের প্রথম পাঠশালা। প্রাচীনকাল থেকে মসজিদকে কেন্দ্র করে চলে আসছে মক্তব শিক্ষার কার্যক্রম। ইতিহাসে পাওয়া যায়, অনেক রাজা-বাদশাহ, আমির-উমারা, অলি-দরবেশ, পীর-মাশায়েখ, শিক্ষক-সাংবাদিক, কৃষক-শ্রমিক মক্তবের মাধ্যমে শিক্ষাজীবন শুরু করেছেন। অনেক লোককে বলতে শোনা যায়, আমি জীবনে কোনোদিন স্কুলের ধারে-কাছে যাইনি। কিন্তু মক্তবে যাইনি, এমন কথা বলার মতো মানুষ সমাজে পাওয়া মুশকিল। এই হলো মক্তব শিক্ষার প্রভাব ও বিস্তৃতি। এভাবেই মক্তব শিক্ষা মুসলিম সমাজের অন্যতম সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। বলা হয়, ভালো মানুষ হওয়ার জন্য মক্তব শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
শিশুরা নৈতিক শিক্ষার প্রাথমিক জ্ঞান লাভ করে কোরআন শিক্ষার পাঠস্থান মক্তব থেকে। কিন্তু দুঃখের কথা হলো, ধীরে ধীরে সমাজ থেকে মক্তব শিক্ষা হারিয়ে যেতে বসেছে। ভোরবেলায় শিশুদের মক্তবে যাওয়ার চিরাচরিত দৃশ্য এখন আর গ্রামবাংলায় খুব একটা দেখা যায় না। মসজিদের বারান্দাগুলো দরুদ শরিফ, হামদ-নাত আর আলিফ-বা-তা এর মিষ্টি মধুর সুরের শব্দে মুখরিত হয় না। শোনা যায় না, শত কণ্ঠে সকালে কোরআনের আওয়াজ।
যেহেতু মক্তব থেকে শিশুদের নৈতিক শিক্ষার যাত্রা শুরু, তা যদি হারিয়ে যায়, তাহলে আমাদের সামনেই আমাদের শিশুরা নৈতিকতা বিবর্জিত অবস্থায় বড় হয়ে উঠবে। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। কেননা আজকের শিশু আগামী দিনে দেশের নেতৃত্ব দেবে। সেই শিশুরা সুন্দরভাবে বেড়ে না ওঠলে সভ্য সমাজের আশা করা যায় না। এ জন্য মক্তবগুলো চালু রাখা দরকার।
[ Read More ]