জীবনী
তিনি একজন সুবক্তা, লেখক, উদ্যমী, কর্মচঞ্চল, শিক্ষা উদ্যোক্তা। ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারী/মার্চ এর দিকে দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট থানার বারোপাইকের গড় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। রাণীগঞ্জ বাজার প্রাইমারি স্কুলে প্রাথমিক পড়াশোনা শুরু। এরপর থেকে স্থানীয় হিফয মাদরাসায় ভর্তি হন এবং বগুড়া কারবালা মাদরাসা থেকে হিফয সম্পন করে খুলনা দারুল উলূমে কিতাব বিভাগে পড়া শুরু করেন। কাফিয়া থেকে জামেয়া এমদাদিয়া দারুল উলূম মিরপুর ১২ থেকে মিশকাত পর্যন্ত। এরপর জামেয়া রহমানিয়া থেকে দাওরায়ে হাদীস, জামেয়া হোসাইনিয়া আরজাবাদে ইফতা। সরকারি মাদরাসায় হাদিস বিভাগ থেকে কামিলে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন।
ইমামতি দিয়ে কর্মজীবন শুরু। ফরিদপুরের ভাঙা থানায় প্রথম কর্মস্থল। এরপর গাইবান্ধা থেকে বগুড়া বাইতুর রহামান সেন্ট্রাল মসজিদ। তদানীন্তন উত্তরাঞ্চলে বহুল প্রচারিত বগুড়া সেন্ট্রাল মসজিদে একটি বড় প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তিনি পেশ ইমাম ও ভারপ্রাপ্ত খতিব হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন ২০০৮ সালে। খুব অল্প সময়ে তিনি বগুড়ার সুধীজন ও মুসল্লি থেকে শুরু করে আলেম-উলামার নিকট ব্যাপক পরিচিত হন। ২০০৯ সালের অক্টোবরে নিজ উদ্যোগে এককভাবে একটি ভাড়াকৃত বিল্ডিংয়ে মাদরাসাতুল মদীনা প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে শিক্ষা নিয়ে তিনি বিপ্লবী কাজ শুরু করেন। একই সঙ্গে শিক্ষকতা ও উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করতে থাকেন। অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার পর ২০১২ সালে অত্র মাদরাসা নিজস্ব ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়ে এখন অবধি পরিচালিত হচ্ছে এবং মহান আল্লাহর অনুগ্রহে সম্প্রসারিত হচ্ছে। তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা ও স্বপড়ববান মানুষ। মাদরাসাতুল মদীনাকে সামনে রেখে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি বারিধারা সেন্ট্রাল মসজিদের খতিব হিসেবে যোগদান করে তিন বছর সুষ্ঠভাবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে আবার নিজস্ব মাদরাসাকে গতিশীল করার জন্য বগুড়ায় প্রত্যাবর্তন করেন এবং এবারে মাদরাসাকে আরও গুছিয়ে নেন। মাদরাসাতুল মদীনা বগুড়া প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার পাশাপাশি তিনি স্কুল অভ দ্যা হলি কুরআনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, মারকাজুল কুরআন মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা, জামেয়া আশফাক উদ্দীন আল ইসলামিয়্যার প্রতিষ্ঠাতা পরামর্শক, হালিমা খাতুন মহিলা মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরামর্শক। এ ছাড়াও আরও অনেক দ্বীনি প্রতিষ্ঠান তাঁর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ পরামর্শে পরিচালিত হচ্ছে। উম্মাহর স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের দ্বীন শেখানোর জন্য শায়েখ মসজিদভিত্তিক মক্তব প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যাপক ফিকির করেন। ফলে দিনাজপুর, বগুড়া ও কুড়িগ্রামে প্রায় ৫০টি মসজিদে ১৫শ’র অধিক শিক্ষার্থী তাদের মৌলিক দ্বীন শিক্ষা গ্রহণ করতে পারছে।
উম্মাহর প্রতি ভালোবাসা, সমাজের প্রতি কর্তব্যপরায়ণ। রমজান, ঈদ, কুরবানি, শীতবস্ত্রসহ স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন কার্যক্রম হযরতের উদ্যোগে বাস্তবায়িত হয়ে থাকে। তিনি অনুদান সংগ্রহের মাধ্যমে এ যাবত কোটি কোটি টাকার সমাজ সেবা করেছেন। দুস্থ-নিঃস মানুষের আবাসন তৈরি করে কর্মসংস্থান তৈরি করে দিয়েছেন। বেশ কয়েকজন বিধবা ও নিঃস্বদের মাসিক খরচ নির্বাহ করছেন। এতিম, অসহায় ও দরিদ্রদের জন্য মুফতি মনোয়ার হোসেন এক আশ্রয়ের নাম। শিক্ষা ও সেবায় আরও বড় পরিকল্পনা নিয়ে শায়খ কাজ করে যাচ্ছেন। ৪ ছেলে সন্তানের জনক। ৬ ভাইয়ের মধ্যে ৩য়। বাবা-মা জীবিত আছেন এবং তাদের দুআয় তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন। সামনের দিনগুলোতে তিনি আরও দৃঢ়পদে এগিয়ে যান, সুস্থতার সাথে তিনি দ্বীনের খেদমত আঞ্জাম দিয়ে যান।
বাণী
আমি ইসলাম প্রচারের জন্য এবং মুসলমানদের প্র্যাকটিসিং মুসলমান গড়ার লক্ষ্যে দ্বীনের দাওয়াত দিয়ে যাচ্ছি। গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষের সন্তানরাও বিভিন্ন খ্রিস্টান মিশনারীদের ফাঁদে পড়ে সেকুলার লেখাপড়া সঙ্গে সঙ্গে নাস্তিকতা শিখছে, আর তারা খ্রিস্টানদের পথে যাচ্ছে। এই সন্তানগুলোকে দ্বীনের শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে মারকাযুল কুরআন মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত করেছি। এই বাচ্চাগুলোকে বিভিন্ন শিক্ষা সামগ্রী, এক বেলা খাবার সহ বিভিন্ন সহযোগিতা করে যাচ্ছি। আপনাদের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।
